মানুষের   নিরাপদ বাসস্থান প্রসঙ্গ  

                      মো.ওসমান গনি.

পৃথিবীর সব মানুষই একটু সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন ধারন করতে ভালবাসে, সুখ শান্তিতে থাকতে চায়।যার কারনে এখন গ্রামের মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের ধারনা গ্রাম ছেড়ে হয়ত শহরে গেলে পাল্টে যাবে তাদের জীবন যাত্রার মান।হতে পারবে তারা অতি তারাতারি বড় লোক।যার জন্য গ্রামের মানুষ জীবনের শেষ আশ্রয়ের স্থান হিসাবে শহরকে চিহ্নিত করে থাকে।ছুটে চলে শহরের দিকে। গ্রাম শহরমুখী গ্রামীণ জনস্রোত বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ জনজীবনে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই সুস্পষ্ট হচ্ছে। গ্রামগুলো আগের আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে। গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। গ্রাম উজাড় হচ্ছে প্রধানত দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণে। অপেক্ষাকৃত ভালো জীবনযাপনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিম্নবিত্ত, দরিদ্র শ্রেণি গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে। শহরে পা রাখতে পারলে রিকশা চালিয়ে, শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মোটামুটি ভালো উপার্জন সম্ভব। গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করলে প্রতিমাসে নির্ধারিত বেতন পাওয়া যাবে। যা গ্রামে বসে অর্জন সম্ভব নয়। অধিকতর উপার্জনের আশায় ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরী এবং আশপাশের শিল্প এলাকাগুলোতে গ্রাম থেকে আসা নারী-পুরুষের ভিড় বেড়েই চলেছে।যার ফলে শহরে বসবাস কারী লোকজন এখন আর আগের মতো ‍সুন্দর জীবন যাপন করতে পারেন না। তার কারন গ্রামের লোকজন অতিমাত্রায় শহরে আসার কারনে বসবাসের জায়গার পরিমান দিন ‍দিন কমে যাচ্ছে। ঘেষাঘেসি করে বসবাস করতে হচ্ছে এখন শহরে বসবাস কারী লোকজন কে। যেটা শহরের লোকজন কোনদিন চিন্তা ভাবনা ও করেন নি, যে এক সময় শহর জীবন মানুষের কাছে দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।শহরে লোকজন অতিমাত্রায় আগমনের ফলে শহরে বাড়ছে বস্তিবাসী মানুষের পরিমান।যারা গ্রামের সহায় সম্পতি বিক্রি করে অধিকতর ভালোভাবে জীবন ধারনের জন্য শহরে পাড়ি জমান তারা সেখানে গিয়ে বস্তিবাসী হয়ে যান। গ্রামে যাদের কে লোকজন সামান্য পরিমান হলে ইজ্জত দিত আজ তারা শহরে গিয়ে হয়ে গেল বস্তিবাসী। অনেক সময় এই বস্তির লোকজন তার গ্রামের লোকজন দেখলে মান ইজ্জতের ভয়ে পালিয়ে থাকে।যারা অধিকতর ভাল জীবনের আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান তাদের দিন দিন কাল গ্রামের ছেয়ে খারাপ হয় । ভালো হয় না।বাস্তিতে বসবাস করার কারনে তাদের চলাচল স্বভাব চরিত্র দিন দিন খারাপ হয়ে যায়। কারন শহরের বস্তির লোকজন বর্তমানে মাদক ব্যবসা হতে শুরু করে সকল ধরনের খারাপ ব্যবসার  সাথে জড়িত। শহরের খুন খারাপির সাথে জড়িত। বিভিন্ন ভাবে দিন দিন তাদের চরিত্র খারাপ হতে থাকে। লেখা পড়ার কোন জিনিস ই তাদের ধারে কাছে থাকে না। কারন মা ছেলে মেয়ে বাপ সবাই মিলে অন্ন জোগানের চিন্তায় ব্যস্ত থাকার কারনে,অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে তারা লেখা করতে পারে না।বা তাদের কে কেউ লেখা পড়ার করার জন্য বলে না বা উদ্দোগ নেয় না। শহরের রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের কে ছোট ছোট হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।সবাই তাদের কে ব্যবহার করে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করে থাকে।তাদের কে একটু স্বচ্ছল হয়ে বসবাস করার জন্য কেউ কোন দিন উদ্যোগ নেয় না বা এগিয়ে আসে না। বরং অনেক সময় দেখা যায় , বস্তির লোকজন সরকারি জায়গায় থাকার কারনে তাদের উচ্ছেদ দেয়া হয়।যেটা খুবই দু:খের ও বেদনার কারন। গ্রাম ছেড়ে অতিমাত্রায় শহরের দিকে লোকজন ধাবিত হওয়ার কারনে পরিকল্পিত নগরায়ন ও আমাদের জন্য সমস্যার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

 

দেশের সচেতন নাগরিকদের  প্রত্যাশা দেশের লোজজন যে যেখানে যে অবস্থায় আছে তাদের কে সেখানে সুস্থ্য ভাবে বসবাস করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তাদের বাসস্থান নির্মান করা হউক। পরিকল্পিত নগরায়ণ হোক বাংলাদেশে। যেখানে থাকবে প্রশস্ত রাস্তা, বিস্তৃত খেলার মাঠ, লেক, সবুজ গাছপালা বন বনানী সমৃদ্ধ পার্ক, সুদৃশ্য বাসযোগ্য টেকসই ইমারত, হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, বিনোদনের জন্য অডিটরিয়াম, হল প্রভৃতি। যেখানে যানজট, লোডশেডিং এবং ভোগান্তি, বছরজুড়ে পানি সরবরাহে ঘাটতি, গ্যাস সংকট, ময়লা আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধময় অস্বস্তিকর পরিবেশ কোনোটাই থাকবে না। বর্ষাকালে রাজপথগুলো হাঁটুসমান কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না। আলো বাতাসহীন অস্বাস্থ্যকর দুর্গন্ধময় বস্তির বিস্তৃতি ঘটবে না সেখানে।অনাসয়ে মানুষ সেখানে আনন্দের সহিত বসবাস করবে। পাল্টে যাবে দেশের সকল মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়ে যাবে।কমে যাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভাবে ঘটিত ভুমিকস্প সহ  অন্যান্য দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা।

 

 এক সময় গ্রামের মানুষও ইদানীং নিজ বাসভূমি ছেড়ে শহরে চলে যাওয়ার জন্য নানা উপায় খুঁজছে। গ্রাম ছেড়ে শহরে লোকজন চলে যাওয়ার বড় কারণ ছিল দারিদ্র্য। প্রচণ্ড অভাব ছিল গ্রামগুলোতে। কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য পেতেন না উত্পাদিত কৃষিপণ্যের। আবাদি জমি অনুর্বর থাকত। সেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদের তেমন উদ্যোগ ছিল না।  বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ না থাকার কারনে ফসলের পরিমান হতো অত্যান্ত কম। তখন সে সময়ে লোকজন ছিল সে পরিমান ফসল দিয়ে তাদের খাদ্যের চাহিদা পুরন করা যেত না।যার কারণে গ্রামে অভাব, মঙ্গা, দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত। তখন কেউ কেউ অভাবের যন্ত্রণা সইতে না পেরে সচ্ছলতা সমৃদ্ধির আশায় শহরে পা রাখত। তখন মানুষ অন্নের অভাবে শহরমুখী হতো কোনোভাবে কাজ করে পেট চালানোর জন্য। কিন্তু গত দেড় দুই দশকে গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক ভিত্তি আগের চেয়ে অনেকটা মজবুত  ও সবল হয়েছে।গ্রামের মানুষ এখন দেশে কৃষি কাজের পাশাপাশি আর ও অনেক কর্ম করে থাকে।গ্রামে এখন এমন ও মানুষ রয়েছে যাদের রোজ দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে। যার কারনে এখন গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ গিয়ে কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে এবং বিশাল আকারের বাড়ি গাড়ীর মালিক ও হয়ে গেছে যার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। অনেক গ্রামের মানুষ এখন শহরের বড় বড় শিল্পপতিদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলার ক্ষমতা রাখে।

 

বিদেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং গ্রামীণ শিল্প ব্যবসা বাণিজ্যে অনেক উত্তরণ ঘটেছে এই সময়ের মধ্যে। গ্রামীণ অবকাঠামো বদলে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতির সঞ্চার করেছে। গ্রামের যে মানুষটি আগে সামান্য আয়ে সন্তুষ্ট থাকতেন, এখন দেশ-বিদেশে চাকরির সুবাদে প্রতিমাসে তিনি হাজার হাজার টাকা পরিবারের জন্য পাঠাতে পারছেন। দেশের গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত নারী-পুরুষ শ্রমিক-কর্মীদের সবাই গ্রাম থেকেই আসা। ফলে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ সমাগম হচ্ছে গ্রামে। এসব কারণে গ্রামের অর্থনীতি অনেক চাঙ্গা বর্তমানে। বাস্তব অবস্থা হলো, এখন গ্রামবাংলায় কাঁচা ঘরবাড়ি দেখা যায় না। গ্রামে কাজ করার জন্য কৃষি শ্রমিক পাওয়াটা কঠিন ব্যাপার হয়ে গেছে। গ্রামের সবাই এখন শহরমুখী নানাভাবে। শহরমুখী এই প্রবণতার পেছনে যুক্তিহীন আকর্ষণ রয়েছে শহরের প্রতি।

 

গ্রামের লোকজনের অনেকেই মনে করেন, শহরের আকাশে বাতাসে টাকা উড়ে বেড়ায়, গিয়ে তা ধরতে পারলেই হলো। এটা যে কত বড় ভুল ধারণা, তা শহরে পা রাখার পর তারা উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু তখন আর করার কিছুই থাকে না। দু চোখে নানা রঙিন স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে পা রাখা নারী-পুরুষগুলো যখন প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে দাঁড় করাতে পারেন না, গ্রামের ভিটেমাটি বিক্রি করে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে পারেন না। সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে তখন শহরে কোনোভাবে মাথা গুঁজে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেন। ভাড়া করা বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। যেখানে অনেক সময় সুস্থভাবে বসবাসের ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা থাকে না। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বস্তিগুলোতে কী নিদারুণ মানবেতর জীবন যাপন করছেন লক্ষ লক্ষ নারীপুরুষ শিশু।  এক ধরনের কুৎসিত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনোভাবে বেঁচে থাকাটা জীবনযাপন নয়। অথচ গ্রামে তাদের চমত্কার সুন্দর ছিমছাম বসতবাড়ি ছিল। সামনে একটি উঠোন। বাড়ির পাশের আঙিনায় সবজি চাষ হতো। যা দিয়ে একটি সংসারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা পয়সা ও রোজগার করা যেত। সারা বছর টাটকা শাকসবজি পাওয়াটা কোনো সমস্যা নয় সেখানে। কিন্তু মিথ্যে স্বপ্নে বিভোর হয়ে শহর নামক তথাকথিত স্বর্গে এসে দারুণ দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। তারা যদি গ্রামে থেকে বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের, উন্নত জীবনযাপনের চেষ্টা চালিয়ে যান তাহলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের অভিশাপ মুক্ত হতে পারব আমরা। এতে করে গ্রাম শহর সকল শ্রেনীর মানুষের জীবন যাত্রার মান ও চলাফেরায় এসে যাবে গতিশীলতা, কেটে যাবে তাদের দুর্বিসহ জীবনে চলাফেরার কষ্ট। বিশ্বের অনেক দেশেই তাদের নাগরিক দের পরিকপ্লিত বাসস্থানের কারনে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের জীবন বিভিন্ন দুর্ঘটনা হতে বেঁচে যায়। নাগরিক বসবাস যোগ্য এলাকায় যদি কোন সময় আগুন লাগে তাহলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ঢুকতে না পারলে কি করে আগুন নিভাবে। অগ্নিকান্ড, ভুমিকম্প সহ আর অন্যান্য সমস্যার হাত থেকে আমাদের বাঁচতে হলে অবশ্যই পরিকল্পিত বাসস্থান নির্মান করতে হবে।আমাদের ভবিষ্যত প্রজম্নের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নির্মান করে যেতে হবে আমাদের কে। যাতে তারা পরবর্তী জীবনে বসবাস করতে এসে  তাদের পুর্বের প্রজন্ম কে তিরস্কার না করে।

 

                                           লেখক :

                                     সাংবাদিক কলামনিষ্ট

 তারিখ:৩০.১০.16ইং। কুমিল্লা । মোবাইল: ০১৮১৮-৯৩৬৯০৯

  • আবার আমরা মানুষ হই
    মো. ওসমান গনি.
    আমরা সবাই এক বিধাতার সৃষ্টি সকল মানুষ।নারী ও পুরুষ এই দুইজাত মিলেই আমাদের সমাজ ব্যবস্থা।ধর্মের দিক দিয়া আমরা এ পৃথিবীতে বহু গোত্রে বিভক্ত।আমরা ধর্ম বা গোত্র যাই বলি না কেন, সব কথার মুল কথা হলো আমরা মানুষ।আমরা একে অপরের ভাই। ভাই ভাই হিসাবে চলাফেরা করাটাই হলো আমাদের মুল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। আমরা সবাই যদি ভাই ভাই হিসাবে চলাফেরা করি তাহলে আমাদের মধ্যে কোন হিংসা বা বিদ্বেস জন্মাতে পারবে না।কিন্তু যখন আমাদের ভাই ভাই চলার মধ্যে হিংসা বা বিদ্বেস সৃষ্টি হবে তখন আমাদের মধ্যে রাহাজানি,মারামারি কলহের সৃষ্টি হবে। শুরু হবে আমাদের মধ্যে দ্বন্দ,মারামারি,রাহাজানিসহ আরও নানাহ ধরনের কলহ।যেটা কোন মানব সমাজে জন্য কাম্য হতে পারে না। আমাদের কে বিধাতা সৃষ্টি করেছেন মারামারি বা রাহাজানির জন্য নয়।এ পৃথিবীতে আমরা যত ধর্মের দিকে খেয়াল করি দেখি কোন ধর্মই মানুষ হত্যা করা সমর্থন করে না।তাই যদি কোন ধর্মই হত্যা সমর্থন না করে তাহলে আমরা কেন মারামারি,রাহাজানি সৃষ্টি করে মানব সন্তানকে হত্যা করার কাজে লিপ্ত হলাম।এটা থেকে আমাদেরকে দুরে থাকতে হবে।কারন আমরা মানব সন্তান,আমাদের কে মরতে হবে। মরার পর আমাদের সকল মানব সন্তান কে বিধাতার কাছে আমাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।তাই আমাদের সকল মায়ের সন্তানকে এই বাংলার আলোবাতাসে একত্রে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে।সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের বাংলাদেশ। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টান, ধর্মবর্ণনির্বিশেষে আমাদের বসবাস। আমরা সবাই একই রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। একে অন্যের ভাই, বন্ধু, আপনজন। ইদানীং কতিপয় বিপথগামী তরুণ-তরুণীর জন্য সেই পরিবেশ নোংরা হতে চলেছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। ধার্মিক হওয়া ভালো। তবে ধর্মান্ধতা কখনোই কাম্য নয়। ধর্মকে পুঁজি করে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ-অরাজকতা সৃষ্টি করা কারোরই কাম্য হতে পারে না।
    দেশের রাজনীতি কে উদ্দেশ্য করে দেশের মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করা কোন সভ্য দেশ বা মানুষের কাম্য হতে পারে না।দেশ কার দ্বারা পরিচালিত হবে সেটা আল্লাহ হতে নির্ধারিত হয়ে থাকে।দেশের মানুষ হত্যা করে বা দেশের মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া কোন ধর্মই সমর্থন করে না।দেশের মধ্যে ও দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সকল ধর্মের ই কথা।আমি মহাপুরুষ মুহম্মদ (স.)-এর জীবনী পড়েছি। আরো মহান মনীষীর কথাও জানি। তাঁরা কখনো বলেননি, মানুষ হত্যা করে, মানুষের শান্তি বিনষ্ট করে বেহেস্তে যাওয়া যায়। পাওয়া যায় হুরপরীদের সান্নিধ্য। তাঁরা বরং মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে সাহায্য করার কথা বলেছেন। বিপদে-আপদে একজনের পাশে আরেকজনকে দাঁড়াতে বলেছেন।
    প্রতিটা ধর্মের মূল কথা হলো- শান্তি। চুরি না করা। পাপ কাজ না করা। বিনা প্রয়োজনে জীব হত্যা না করা। মিথ্যা কথা না বলা। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে, আজ আমরা মানবজাতি নিজেদের ধ্বংসের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছি। একে অন্যের সাথে অহেতুক হানাহানিতে লিপ্ত হচ্ছি।
    ছোটবেলা থেকেই শিশুদের স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এক একটি পরিবার যদি এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে তবে বড় হয়ে সেই শিশু অনৈতিক কাজে জড়িত হতে পারে না। নৈতিকতার শিক্ষাটা শুরু হতে হবে পরিবার থেকেই। এরপর সমাজে। সর্বশেষ আসে রাষ্ট্রের কথা।
    আমি ইসলাম ধর্মের অনুসারী। কিন্তু সকল ধর্মের মানুষকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করি, সকল ধর্মকেও আমার নিজের ধর্মের মতোই সম্মান করি। পবিত্র মনে করি। ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই আমি বড় হয়েছি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত পরিবেশে। আমার প্রিয় বন্ধুদের ব্যাপারে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে সেই তালিকায় আমার এমন অনেক বিশ্বস্ত-উপকারী ও প্রকৃত বন্ধুর নাম উঠে আসবে, যারা কেউই আমার ধর্মের অনুসারী নয়। তবুও আমরা বন্ধু। প্রাণের বন্ধু। যে বন্ধুদের মাঝে ধর্মবর্ণজাত কোনো বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। ভবিষ্যতেও তা হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়।
    আমরা যদি এ ভাবে চিন্তা করি যে, আমরা বাংলা মায়ের প্রতিটি সন্তানই একে অন্যের ভাই। একে অন্যের বন্ধু। একে অন্যের শুভাকাঙ্ক্ষী। তাহলে বোধহয় অধর্মের অন্ধকার দিকগুলো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াতে পারবে না। ধর্মই আমাদের শিখিয়েছেন উদার হতে। এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে শ্রদ্ধা করতে। হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ না হয়ে আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত- মানুষ। আমরা সবাই একই মায়ের সন্তান। বাংলা মায়ের সন্তানই হোক বড় ও প্রধান পরিচয়।
    সংগৃহীত একটি গান দিয়েই শেষ করছি- মন্দির ভাঙ্গো আর মসজিদ ভাঙ্গো/ সেগুলো তো গড়া যাবে।/ কেন মানুষ মারো/ তাকে কি কখনো পাওয়া যাবে?/ ও বন্ধু, কেন বোঝো না/ আমরা সবাই এক মায়ের ছেলে/ হাজার হাজার মরেছে মানুষ/ এই পৃথিবীতে,/ হাজার মায়ের বুক হয়েছে খালি/ ধর্মের লড়াই করে।/ তুমিও মানুষ আমিও মানুষ/ কেন ভেদাভেদ করো পৃথিবীতে।/ ও বন্ধু, কেন বোঝো না/ আমরা সবাই এক মায়ের ছেলে / জনম জনম হিন্দু-মুসলিম/ থাকবে জগতে,/ জনম ধরে থাকবো মোরা/ একই স্রষ্টার ছায়াতে,/ আল্লাহ্ বলো ভগবান বলো/ কেন ভেদাভেদ করো পৃথিবীতে।/ ও বন্ধু, কেন বোঝো না/ আমরা সবাই এক মায়ের ছেলে ।পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই,আমরা বিধাতার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।আর এই শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে আমাদের বিবেক,বুদ্ধি ও শ্রেষ্ঠ।ভালো-মন্দের বিচার বিশ্লেষন করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।তাই আমাদের মধ্যে যে ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে তা ভুলে গিয়ে শান্তির পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে।আমাদের দ্বারা এমন কোন কাজ হবে না,যা দ্বারা মানুষের মনে কষ্ট হয়,বা কোন মা-বাবার অন্তরে কঠিন আঘাত লাগে।সকল ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে শান্তির লক্ষ্যে সকলকে একত্র হয়ে দেশের শান্তির স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে।দেশের শান্তি হলে দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
    লেখক:সাংবাদিক ও কলামিস্ট
    তারিখ:২৩.১১.১৬।মোবা:০১৮১৮৯৩৬৯০৯।কুমিল্লা।
    Email:ganipress@yahoo.com

  • নিরপেক্ষ গণমাধ্যম জাতির প্রত্যাশা
    মো. ওসমান গনি.
    গণমাধ্যমকে বলা চলে দেশের জনগনের দর্পণ।আমরা দর্পণের মাধ্যমে যেমন আমাদের অবয়ব দেখতে পাই ঠিক তেমনি ভাবে আমরা গনমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের তথা সারাবিশ্বের অবয়ব দেখতে পাই।তাই আমাদের দেশের গনমাধ্যম কে হতে হবে সম্পুর্ণ নিরপেক্ষ।তাই বলে কি গনমাধ্যমের কর্মীদের কোন রাজনীতি করার অধিকার নাই?অবশ্যই তারা রাজনীতি করতে পারবেন। তবে গনমাধ্যমের নিউজের সাথে তাদের কোন রাজনীতি প্রকাশ পাবে না।নিউজ পড়ে কোন মানুষ যাতে বলতে না পারে যে অমুক সাংবাদিক অমুক রাজনৈতিক দলের হয়ে নিউজ করছে।অর্থাৎ তাদের প্রকাশিত সংবাদ পড়ে দেশের জনগন যাতে বুজতে না পারে যে সে অমুক দলের দালালি করছে।বা অমুক দলের পক্ষে নিউজ করছে।কারন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সংবাদ পাই। বর্তমান পরিস্থিতিতেও গণমাধ্যম এই ভূমিকা পালন করছে। এর দুটি দিক আছে। প্রথমত, আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের আন্দোলনের পরিস্থিতিটা বা ইতিবাচক-নীতিবাচক দিকটাও আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানছি। আমরা যখন দেখি হরতাল-অবরোধের সময় আগুন জ্বলছে, পেট্রলবোমা পুড়ছে তখন প্রশ্ন ওঠে গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা সেখানে এত তাড়াতাড়ি পৌঁছালেন কীভাবে? আবার এর উত্তর অনেকে এমনভাবে দেন এসব তো সাংবাদিকদের জানারই কথা। কারণ তারা তো সব সময় এর অনুসন্ধানই করেন। তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্য এ ধরনের সংবাদ প্রকাশে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন। কারণ তারা যদি আগে থেকেই জানেন এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে তা জনগণকে রক্ষা করার জন্য সাধারণ মানুষকে জানালেই পারেন। কিন্তু পত্রিকার আদর্শ অনুযায়ী দুঃসংবাদ বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ ‘বেড নিউজ ইজ অলয়েস গুড নিউজ ফর মিডিয়া’। যেমন বিমান দুর্ঘটনা হলেই আমরা জানতে পারি, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ভালো কাজ হলেও আমরা দুর্ঘটনাগুলোই গণমাধ্যমে দেখি। সে দিক থেকে আমরা বলতে পারি গণমাধ্যম তো এমনটাই চাইবে।
    কিন্তু আজকাল গণমাধ্যম আমাদের দেশে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। জাতির বিবেকের ভূমিকাও মাঝে মাঝে পালন করে। তাই এ সময় গণমাধ্যমের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, এমন সংবাদ পরিবেশনের, যাতে করে মানুষের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি ও আশার সম্ভাবনা সৃষ্টি করা যায়। গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রয়াস ও উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সত্যকে জানতে পারি, যে সত্য হয়তো কোনোদিনও আমাদের সামনে আসত না। গণমাধ্যমের কর্মীদের নিরন্তর পরিশ্রম, কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নানা তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক একেকটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো ইতিবাচক দিক বা নীতিবাচক দিক ব্যাখ্যা করছে। আমরা গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা পেয়ে নিজেদের মতো বোঝার সুযোগ পাচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান দুদলই দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কেউ কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বসতে চাচ্ছে না। সবগুলো গণমাধ্যম বলে আসছে দুদলকে সমঝোতায় বসা উচিত, সংলাপ বা আলোচনা হওয়া উচিত। মানুষকে এ আতঙ্কজনক অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত। একটি যথার্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যম ভূমিকা রাখবে এমনটাই সাধারণ জনতার আশা। অন্যদিক থেকে বলা যায় গণমাধ্যম বিবদমান দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের মতামতের প্রতিফলন দেখিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো চাপ গণমাধ্যম সৃষ্টি করতে পারেনি। কারণ আমাদের দেশের গণমাধ্যমকর্মী, গণমাধ্যম করপোরেট মালিক, পুঁজিনিয়ন্ত্রণকারী করপোরেটরা যে কোনোভাবেই হোক একেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কেউই এ রাজনৈতিক গন্ডি অতিক্রম করতে পারেন না।
    সাংবাদিকের নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকবে। কিন্তু তিনি কখনো রাজনৈতিক মুখপত্র হবেন না। কিন্তু আমাদের দেশে সম্পূর্ণ এর বিপরীত প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে যে কোনো সাংবাদিক যখন কথা বলেন তখন অন্যরা সবাই তাকে নির্দিষ্ট দলের বলে চিহ্নিত করেন। ফলে তার কথা কেউ শুনছেন না। আমাদের গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যারা আছেন, তারা নিরাসক্তভাবে বাস্তবতা বলছেন তা কিন্তু নয়। পাকিস্তানের হামিদগুল বলেন, ভারতের কুলদীপ নায়ার বলেন তাদের বক্তব্যে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায় না। আমাদের দেশে এ রকম সাংবাদিক নেতার অভাব। সাংবাদিক নেতারা যখনই কথা বলেন, তারা যে কোনো দলের বলে চিহ্নিত হয়ে পড়ছেন, যা মানুষ মেনে নিতে পারছে না। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাসক্ত, মুক্তচিন্তার ও মুক্তচিত্তের গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠকের আমাদের অনেক প্রয়োজন। আর এমনটা হলেই আমাদের প্রার্থিত, কাঙ্খিত, সুস্থ ও কল্যাণকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাই জাতির শিক্ষক হতে পারেন। কারণ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ পেশাকে বেঁছে নিয়েছেন। যে কোনো সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকরা তাদের মেধা-মনন, মুক্তচিত্ত ও বিবেচনা দিয়ে সংবাদ আমাদের সামনে পরিবেশ করবেন। একটি সংবাদের নানামুখী ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যাটা যেন জনগণমুখী, মানবমুখী ও দেশমুখী হয়। ব্যক্তিভাবনা ও রাজনৈতিক আদর্শ যেন প্রাধান্য না পায়। সংবাদকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি জেনেও যেহেতু এ পেশার সাথে জড়িত হয়েছেন তারা অবশ্যই তাদের মেধা-মনন ও দক্ষতার দ্বারা নিউজ করে দেশের জনগনকে প্রমান করিয়ে দিতে হবে যে,সাংবাদিকরা কোন রাজনৈতিক দলের বা গোত্রের বিশেষ ব্যক্তি নন।তারা তাদের দায়িত্বের খাতিরেই সত্য নিউজ করে থাকেন।এতে করে দেশের মানুষের কাছে যেমন তিনি সঠিক দায়িত্ববান সাংবাদিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করবেন তেমনি তিনি যে পত্রিকায় কাজ করছেন সে পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও দিন দিন বাড়তে থাকবে।মানুষ আগ্রহ নিয়ে বসে থাকবে এই দায়িত্ববান সাংবাদিকের লেখা পত্রিকার জন্য।একজন সাংবাদিক যখন নিরপক্ষ সংবাদ প্রকাশ করবেন তখন তিনি দেশের মানুষের কাছে ভালো সাংবাদিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করবেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। আর যখণ কোন দলের বা গোত্রের পক্ষ হয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন তখন তিনি দেশের মানুষের কাছে হলুদ সাংবাদিক বা সাংঘাতিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করবেন।আস্তে আস্তে তার প্রতি হতে মানুষের আস্তা কমতে থাকবে।সাময়িকভাবে তিনি যার নিউজ করছেন তার কাছে গ্রহন যোগ্য হলেও এক সময় তিনি তার নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারবে না।তাই গণমাধ্যমের সাথে জড়িত সকল লোকদের কে অবশ্যই নিরপক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। কারন একজন গণমাধ্যম কর্মীর কাছে দেশের সকল শ্রেনীর মানুষের অনেক কিছু আশা করে থাকে।দেশের মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটানোই হলো একজন ভালো গণমাধ্যম কর্মীর কাজ।স্ব স্ব অবস্থানে থেকে কোন ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।তাহলেই তিনি একজন সফল সাংবাদিক হিসাবে বিবেচিত হবেন।

    লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
    Email:ganipress@yahoo.com
    তারিখ:১১.১১.১৬।মোবা.০১৮১৮-৯৩৬৯০৯।কুমিল্লা।


31.8.16Daily Bartoman

PDS>23.8.16

28.8.16Daily Bartoman

23.8.16>Daily Bartoman

20.8.16>Alokitobangladesh

16.8.16>Daily Janata

16.8.16>PDS

13.8.16.Daily Alokitobangladesh

Daily Bartoman. 12.8.16

06.08.16. Daily Alokitobangladesh

02.08.16. daily Bartoman

pds>04.07.2016

20.6.2016>Daily protidiner sangbad.