Nov. 27, 2016

বাংলাদেশে রাজনীতির প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে রাজনীতির প্রেক্ষাপট
মো.ওসমান গনি
বাংলাদেশের মানুষ এখন সুখ শান্তি আর দু:খ কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। কোন দেশেই যেমন একক ভাবে সুখ নাই আবার কোন দেশেই একক ভাবে দু:খ নাই।এটা আমাদের বিধাতার ই বিধান। সুখ দুখ মিলেই পৃথিবীর সকল দেশের মানুষ জীবন ধারন করে থাকে।এরকম আমাদের বাংলাদেশ ও একটি দেশ। তবে আমার মনে হয় বা যতটুকু বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখি পৃথিবীর সকল দেশের তুলনায় আমরা অনেক টা ভাল। আমি যে কথাটি বলতে যাচ্ছি ,দেশের চলমান বিভিন্ন হত্যাকান্ড নিয়ে দেশের সকল শ্রেনীর মানুষের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করছে।তার পরও দেশের সাধারন মানুষের জীবন থেমে নেই। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাজকর্ম।দেশে চলমান হত্যাকান্ড ও নৈরাজ্য নিয়ে সাধারণ মানুষ কতটা চিন্তিত? এরকম একটি প্রশ্ন নিয়ে যদি আমরা এগোতে শুরু করি তাহলে দেখতে পাই,মানুষের জীবন কোন ভাবে ই থেমে নেই,কোন না কোন ভাবে এগিয়ে চলছেই। কারো থেমে থাকার কথাও নয়। মানুষের জীবন হল চলমান নদীর স্রোতের মতো, না চললেই সৃষ্টি হয় প্রলয়ঙ্করী বন্যার। বাংলাদেশেও তাই, সাধারণ মানুষের জীবন কোনোভাবেই ব্যাহত না হওয়ায় আমরা বড় কোনো বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছি না। আরও অনেক কারণ হয়তো আছে, যা নিয়ে আলোচনা করব কিন্তু তার আগে এই হত্যাকান্ডও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। বিশেষ করে, আজকে যে ভয়ঙ্কর অবস্থার ভেতর এসে বাংলাদেশ পড়েছে তা নিয়ে উদ্বেগহীনতা যে ভবিষ্যতের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও কথা বলতে চাই।
এক সংঘাতময় পরিবেশের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। বাঙালী জাতি এক কঠিন জাতি। এ দেশে বহু ঘাত প্রতিঘাত এর মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতির জন্ম হয়েছে। যার জন্য এ দেশে যত রকমের আঘাত আসুক না কেন বাঙালী জাতি তাতে কোন ভয় পায় না। কারন এসব বাঙালী জাতির সহ্য হয়ে গেছে।বাংলাদেশ তার জন্মের পর থেকে বহুবারই বহু রকম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে আসছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আগে জাসদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা দেশব্যাপী শুরু করেছিল হত্যা আর নৈরাজ্যের উৎসব এবং প্রস্তুত করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট। যে ভীতির সঞ্চার দেশব্যাপী করেছিল জাসদ তার তুলনা আজকের বাংলাদেশে লক্ষ করা যায়। তারপর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড এবং দেশটাকে হরির লুটের পয়সার মতো ভাগাভাগি করার উৎসবও এ দেশের মানুষ দেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সামরিক বাহিনী হতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল গুলো দেশের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ ,তার কারন হল তাদের জন্ম হল বন্ধুকের নলের মধ্যে দিয়ে তাদের চিন্তা চেতনা ও ধ্যান ধারনা ও তেমন।তারা দেশে গনতন্ত্র ও এ দেশের মানুষের মধ্যে তাদের কোন আস্থা বা বিশ্বাস নেই। যে কোনো ভাবে এবং যে কোন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকাই তাদের লক্ষ্য।আর ও একটি মজার ব্যাপার হলো,তাদের দল এবং তাদের কে যারা সমর্থন করে তারা ও তাদের মতো।তারা ও ক্ষমতার লোভী।তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন ফন্দি করে থাকে।সাধারন মানুষকে বোজানোর জন্য তারা ধর্মকে ও ব্যবহার করতে দ্বিদাবোধ করে না।ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের নিরিহ ও সাধারন মানুষদের কে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।তাদের দোসর হিসাবে কাজ করছে দেশের ছোট ছোট ধর্মভিত্তিক দল গুলো। আজকে যারা আমাদের দেশে ইসলাম ধর্মের কথা বলে দেশে র সাধারন লোকজনকে ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মধ্যে যে হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা এবং আজকের সামরিক ছাউনির দলগুলো এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দলগুলো মিলে বাংলাদেশকে কোন বাস্তবতায় এনে দাঁড় করিয়েছে তা তো এ দেশের প্রতিটি মানুষের জানার কথা। কিন্তু তারা জেনেও না জানার ভান করে আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলে ও সত্যি হলো, দেশের অনেক মানুষই এই সত্যকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বা ইচ্ছে করেই চান না। তাই হয়তো এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কোনোকালেই বাঙালির পক্ষে সম্ভব নয়।
আমরা যদি বিগত দিনের হত্যাকান্ড গুলোর দিকে একটু খেয়াল করি তাহলে আমরা দেখব যে, বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সাধারণ চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে গিয়ে একটু ভিন্নভাবে ভাবার মতো মানুষগুলোকেই টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে বিদেশি নাগরিকদের। এর মূল কারণ কী হতে পারে? আমরা ধারণা করতে পারি, এর মূল কারণ হলো এই হত্যাকান্ড গুলোকে দেশে ও বিদেশের মাটিতে আলোচিত করে তোলা। হত্যাকারীরা যে এ ব্যাপারে সত্যিই সফল হতে পেরেছে তা বলা যাবে না। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হত্যাকা-গুলো নিয়ে দেশে যতটা না আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা হয় বিদেশে । আমাদের বাংলাদেশের এখন অবস্থান কি? বাংলাদেশ আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? এর জবাবে দেশের অনেক নাগরিক বলতে পারেন, বাংলাদেশে রাজনীতির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণেই জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাদের পাল্টা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, তাহলে জিয়াউর রহমান যখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বিদেশে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও ধর্মবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বাংলাদেশে এনে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং নিজে কথায় কথায় বলতেন, ‘আমি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব’ তখন রাজনৈতিক সুযোগ কতটা উন্মুক্ত ছিল? ব্যক্তিগতভাবে এমন অনেক ছাত্রনেতাকে আমি চিনি যারা জিয়াউর রহমানের আমলে মার খেয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করেছেন এবং সত্যিকার অর্থে এ দেশের রাজনীতি কি তখন থেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেনি? কিন্তু আমাদের বিজ্ঞ বিশ্লেষকরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। আজকে যদি আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকত তাহলে নিশ্চিতভাবেই হয়তো এই হত্যাকান্ড আর নৈরাজ্যকর কর্মকান্ড ঘটত না কারণ যারা এসব ঘটাচ্ছে তারাই যখন ক্ষমতাসীন তখন আর এরকম কান্ড ঘটানোরই প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে এই দেশটাতে আজকে যতটুকু গণতন্ত্র ও উদারতা অবশিষ্ট আছে তার ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকত কিনা সে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। কারণ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে বারবার ২১ আগস্টের মতা ঘটনা ঘটত এবং কোনো না কোনোভাবে দেশের বিরোধী রাজনীতিকদের সবাই এতদিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।
আজকে যারা বলেন, দেশে রাজনীতির সুযোগ নেই আজকে যারা বলেন, এ দেশে বিরুদ্ধ মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই, রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই তারা যে নিজেরাই যে মিথ্যা বলছেন তার প্রমাণ তারা নিজেরাই অহরহ দিচ্ছেন তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে। সোস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সর্বত্রই তারা সরকারবিরোধিতা করছেন আবার বলছেন, সরকার তাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। এটা যে স্ববিরোধী বক্তব্য হয়ে যাচ্ছে তাও তারা বুঝতে পারছে না। তারা স্বীকার করছেন না যে, আসলে সরকারবিরোধী রাজনীতি তাদের ধাতে নেই, তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চান এবং টিকে থাকতে চান। ফলে তারা সেই ষড়যন্ত্র অর্থাৎ গুপ্তহত্যা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকেই সঠিক পথ হিসেবে মনে করেন এবং সেটাকেই বেছে নিয়েছেন। দেশের চলমান অস্থিরতায় তাই সুনির্দিষ্টভাবেই আর কেউ নয়, ক্ষমতার বাইরে থাকা অপরাজনৈতিক শক্তিটিই সর্বাত্মকভাবে দেশের ধবংসের জন্য আত্মনিয়োগ করেছেন।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, তার মানে কী, বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার জায়গা আর অবশিষ্ট আছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কেন এই প্রশ্নটি আজকাল হরহামেশাই শুনতে হচ্ছে সে ব্যাখ্যা টুকু দেওয়া খুব প্রয়োজন। দেশের ভেতরকার চলমান হত্যাকান্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, এর জন্য সাধারণ মানুষ কিন্তু সরাসরি সরকারকে দায়ী করতে পারছে না, আর পারছে না বলেই প্রশ্নটি সরকারকে না করে ঘরোয়া আলোচনা কিংবা টেলিভিশনে টক শোয় অংশগ্রহণ করেন এমন ব্যক্তিদের করে থাকেন। কেন সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সরকারকে দোষারোপ করে না, তার কারণ বহুবিধ। অনেকের সঙ্গেই কথা বলে যা বুঝেছি তা অনেকটা এরকম। সাধারণ মানুষ মনে করে যে, এরকম চোরাগোপ্তা হামলা এই ১৭-১৮ কোটি মানুষের দেশে সরকারের পক্ষে রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যারা এসব ঘটাচ্ছে তারা আসলে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা যে কোনো উপায়ে দেশকে অস্থিতিশীলতার ভেতর নিয়ে গিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। এই হত্যাকান্ডের ওপর ধর্মের আবরণ লাগিয়ে গরিষ্ঠসংখ্যক জনগণের সমর্থনও তারা চাইছে বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু পরবর্তী প্রশ্নটি যখন করা হয় যে, এভাবে কি আপনিও বাঁচতে পারবেন? তখন অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।
আমাদের দেশের গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম যখন হত্যাকান্ড আর সহিংসতা হয়ে ওঠে তখন এরকম প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। কিন্তু একজন সাধারণ পথচারীকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তার উত্তর হবে, আছি তো, বেশ ভালোই আছি।কোন রকমের সমস্যা তো আমরা দেখতে পারছিনা। হ্যাঁ, তারা হয়তো রোজার মাসে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে হা-হুতাশ করবেন, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়াবাড়ির কথা বলবেন কিংবা বড়জোর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকান্ড নিয়ে তাদের মাথাব্যথা যে সামান্যই সেটা বুঝতে কারোরই সময় লাগবে না। এর মূল কারণ কী? মূল কারণ হচ্ছে, যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে, তাদের ধর্মের সঙ্গে গরিষ্ঠসংখ্যক বাঙালি মুসলমান নিজেদের একাত্ম করতে পারেন না, আর তাই তাদের হত্যাকান্ডে গরিষ্ঠসংখ্যক বাঙালির কিছুই আসে যায় না। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের আমাদের সমস্যাটা এখানেই। আমরা অন্যের ওপর নেমে আসা বিপদের ভাগিদার হতে চাই না, যতক্ষণ না বিপদটি আপনার-আমার ওপর নেমে আসছে। কিন্তু এ কথা আমরা কল্পনাতেও আনতে পারছি না যে, আজকে যে বিপদ দেশের সংখ্যালঘু ধর্ম সম্প্রদায় এবং ভিন্ন চিন্তার মানুষের ওপর নেমে আসছে কাল এই একই বিপদ আমাদের ওপরও নেমে আসতে পারে কি, আসবেই।সে কথাটা আমরা বুজতে দেরে করি।
আজকে যে মানুষটিকে আমাদের অনেক কথা বলে বোঝাতে হচ্ছে যে, এই হত্যাকান্ড ও নৈরাজ্য কারা ঘটাচ্ছে, কালকে যখন এই ঘটনা তার নিজের জীবনে ঘটবে তখন তাদের আর বলে দিতে হবে না কারা এবং কেন এসব ঘটাচ্ছে, কারণ তখন নিজের শত্রু নাকি পাগলেও চিনে নিতে পারে। কিন্তু তখন তো বড্ড দেরি হয়ে যাবে। তখন তো প্রতিকার বা প্রতিবাদের যে সুযোগ এখন রয়েছে তাও থাকবে না। তাই সুযোগ থাকতে আমাদের কে আর ও সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে।এ দেশে আমার আপনার সকলের । এ দেশে কে আমরা সবাই ভালবাসতে হবে। এ দেশের আলো বাতাসে আমি ও আপনি বেড়ে উড়ে উঠেছি। যেহেতু বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ভুখন্ড ,একটি দেশ , সেহেতু এদেশে হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্ঠান মুসলমান সকল ধর্মের লোকজন এক সাথে বসবাস করবে । এটাই একটি স্বাধীন দেশের সাংবিধানিক বিধান।দেশের অস্থিত্ব রক্ষায় এখন আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দেশে হানাহানি ,মারামারি, রাহাজানি,খুনাখুনি বন্ধ করতে হবে। সকল ধরনের হত্যাকান্ড বন্ধ করে দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে হবে।আইনের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃংখলা পুরোপুরি রক্ষা করা যাবে না। যদি আমরা নিজেরা ইচ্ছা করে ভাল না হই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামনিষ্ট
Email:ganipress@yahoo.com
মোবাইল:০১৮১৮৯৩৬৯০৯,
তারিখ:২.৮.২০১৬. কুমিল্লা

13.6.2016> Daily protidiner Sangbad.